সমকালীন প্রতিবেদন : অন্যের অ্যাকাউন্ট এক প্রকার ভাড়া নিয়ে চলছিল নতুন উপায়ে প্রতারণা। অবশেষে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এক প্রতারককে গ্রেফতার করলো পুলিশ। বনগাঁ থানার গ্যাঁড়াপোতা এলাকার ঘটনা।
জানা গেছে, গ্যাঁড়াপোতা এলাকার বাসিন্দা কানাই দাস নামে এক ব্যক্তি পরিচিত মানুষজনদের কাছ থেকে আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার নিয়ে সেটাকে অসৎভাবে কাজে লাগতো। ওই অ্যাকাউন্টে বাইরে থেকে টাকা ঢুকতো। কিন্তু সেই টাকা সরল পথের নয় বুঝতে পেরে আইনের দ্বারস্থ হন গ্যাঁড়াপোতা এলাকারই বাসিন্দা সাধন দালাল।
তিনি জানান, দিন কয়েক আগে কানাই দাস নামে ওই ব্যক্তি তার আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার নেয় এবং বলে যে, তার কিছু টাকা এই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। তার বিনিময়ে তাকে কিছু অর্থ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তিনি অতিরিক্ত রোজগারের আশায় কানাই দাসের প্রস্তাবে রাজি হন।
অ্যাকাউন্ট নম্বর নেওয়ার কয়েকদিন পরেই কানাই দাস নিজেই সাধন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে, তার অ্যাকাউন্টে ২৭ হাজার ৮৭৪ টাকা ঢুকেছে। ওই টাকাটা যেন তিনি ব্যাংক থেকে তুলে কানাই দাসকে দেন। পরদিন সাধন দালাল নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা তুলে কানাই দাসের হাতে দিলে কানাই দাস তাকে ২০০০ টাকা দেয়।
টাকা পাওয়ার পর সাধন দালালের মনে খটকা লাগে। এরপর তিনি এক আত্মীয়র সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করে তাকে দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, এটি একপ্রকার অনুদানের টাকা, যা বাইরে থেকে এসেছে।
বিষয়টি তার সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর সাধন দালাল এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, শুধু তিনি নন, কানায় দাস এইভাবে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে এইভাবে বাইরের টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢুকিয়ে সেই টাকা তুলে নিয়েছে।
এইভাবে টাকা লেনদেন বেআইনি বলে মনে হয়েছে সাধন দালালের। এর পরেই তিনি আইনজীবী মারফত বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কানাই দাসকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কানাই দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এই টাকার উৎস জানার চেষ্টা করছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন