সমকালীন প্রতিবেদন : গ্রীষ্মকালে রোদে বেরিয়ে কাজ করলেই বিপদ হতে পারে! হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো জানেন তো? জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়! হিটস্ট্রোক হয়েছে বুঝলে প্রথমে কি করবেন? কিভাবেই বা প্রতিরোধ করবেন? উপায় কি কি? অলরেডি হিট স্ট্রোক নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছে সব জেলাকে। বিষয়টা কিন্তু খুব সিরিয়াস। প্রতিবছর গ্রীষ্মের হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। প্রতিবেদনটা পড়ুন এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করুন।
এখনই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এখনই অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বেরোচ্ছেন না বেলার দিকে। আর যাঁরা একান্তই কোনও উপায় না পেয়ে বেরচ্ছেন, তাঁদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে একাধিক সমস্যার। এর মধ্যে অন্যতম হিট স্ট্রোক। তবে এটা জেনে রাখা দরকার যে, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কয়েকটা নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেই নিয়মগুলো জানাবো। তবে তার আগে বলব হিট স্ট্রোকের বেসিক কিছু লক্ষণ রয়েছে সেগুলো কি কি?
বৃদ্ধ ও শিশুদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকে বলে তাদেরই হিট স্ট্রোক হয় বেশি। সাধারণত হিট স্ট্রোক হওয়ার কিছু সময় আগে শরীরে অত্যধিক তাপমাত্রা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, বমি বমি ভাব হয়। তাছাড়া চামড়া লালচে হয়ে যাওয়া, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, ঘন ঘন শ্বাস পড়া, নাড়ির দ্রুত গতি, চোখের মণি বড় হওয়া, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত লক্ষণও দেখা যায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর কোনও হুঁশ থাকে না। তাই কোনও মানুষের এমন হলে তাকে সবার প্রথমে কোনও ঠাণ্ডা বা শীতল জায়গায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে বা বসিয়ে দিন। তারপর তার জামা-কাপড় আলগা করে ঠান্ডা জল দিয়ে গা-হাত-পা-মুখ-ঘাড় ধুয়ে দিন এবং তারপর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিন্তু হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কি বলছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকদের একাংশ?
১) ঢিলেঢালা হালকা রঙের সুতির কাপড় পরা।
২) যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত জায়গায় থাকা।
৩) রোদে বাইরে যাওয়ার সময় টুপি, ক্যাপ অথবা ছাতা ব্যবহার করা উচিৎ।
৪) প্রচুর পরিমাণ জল এবং ফলের রস পান করতে হবে।
৫) রোদে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করা যাবে না।
এবার আরও একটা জিনিস জানিয়ে রাখি। বাড়িতেই কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে? সেক্ষেত্রে কি করণীয়? এই ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, প্রথমেই রোগীকে ভালো করে স্নান করাতে বা আইসপ্যাক দিতে হবে।
একইসঙ্গে আর একটা বিষয় মাথায় রাখুন, দিনের যে সময় রোদের তাপ প্রখর থাকে, সেই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া উচিৎ নয় এবং কঠোর শারীরিক কাজ এড়িয়ে চলা উচিৎ। সেক্ষেত্রে সকাল সকাল গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করা যেতে পারে। আর ষাটোর্ধ্বদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় না বেরোনো ভালো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে যে হারে প্রতি বছর হিট স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে বিনা চিকিৎসায় যাতে কারও মৃত্যু না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। চিকিৎসায় দেরি হলে অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে হিট স্ট্রোকে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়েছে, শরীর ঠিকমতো ঠান্ডা (কুলিং) না করার ফলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু ৪০-৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে এড়ানো সম্ভব হয় না। এই বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সব জেলার স্বাস্থ্যকর্তাকে। হিট স্ট্রোক মোকাবিলায় যাবতীয় ওষুধ মজুত রাখার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মশালা করার কথাও বলা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন