সমকালীন প্রতিবেদন : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এমন একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে প্রতিভা ও সুযোগ একসঙ্গে মিলে মিশে যায়। এই লিগ অনেক তরুণ ক্রিকেটারকে রাতারাতি তারকায় পরিণত করেছে। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের উদীয়মান পেসার অশ্বিনী কুমার। আইপিএল-এর ডেবিউ ম্যাচে ২৩ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মাত্র ১১৬ রানে অলআউট করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বাঁহাতি পেসার অশ্বিনী কুমার তাঁর আইপিএল অভিষেক ম্যাচেই অজিঙ্কা রাহানে, রিংকু সিং, আন্দ্রে রাসেল এবং মনীশ পান্ডের উইকেট শিকার করেন। আইপিএল-এর অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলেই তিনি কলকাতার অধিনায়ক রাহানেকে আউট করেন এবং ম্যাচ শেষে ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। তবে এই ক্রিকেটারকেও লড়াই করতে হয়েছিল শৈশবে।
অশ্বিনীর বাবা গ্রামে দেড় একর জমির মালিক। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে তার ছেলে স্টেডিয়ামে যেতে বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ টাকা নিতেন। ম্যাচের পরে অশ্বিনীর বাবা হরকেশ কুমার জানিয়েছেন, ‘বৃষ্টি হোক বা প্রচণ্ড রোদ, অশ্বিনী কখনও মোহালির পিসিএ স্টেডিয়ামে যাওয়া এড়াত না, কিংবা পরে মুল্লানপুরের নতুন স্টেডিয়ামে যাওয়া বন্ধ করত না। কখনও সে সাইকেল চালিয়ে যেত, কখনও লিফট নিত, আবার কখনও শেয়ার্ড অটোতে যেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সে যখন ৩০ টাকা ভাড়া চাইত, তখন বুঝতে পারিনি তাঁর প্রতিভার মূল্য কত। কিন্তু যখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাঁকে নিলামে ৩০ লাখ টাকায় দলে নেয়, তখন বুঝলাম, সে সত্যিই প্রতিটি পয়সার যোগ্য। আজ যখন সে একের পর এক উইকেট নিচ্ছিল, তখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল, যখন রাত ১০টায় অনুশীলন শেষে ঘরে ফিরত এবং ভোর ৫টায় আবার মাঠে চলে যেত।’
যারা জানেন না, তাদের জন্য বলে রাখা ভালো যে, অশ্বিনী কুমার কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা রমনদীপ সিংয়ের সঙ্গে একই অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৯ সালে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অভিষেক হয়। অনেকেই জানেন না যে, তিনি পিসিএ অ্যাকাডেমিতে অভিষেক শর্মা ও আর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া, ২০২৩ সালে শের-ই-পঞ্জাব টি২০ কাপ জয়ী বিআরভি ব্লাস্টার্স দলের সদস্য ছিলেন অশ্বিনী।
আইপিএল-এর অভিষেক ম্যাচেই অশ্বিনী আইপিএলে ইতিহাস গড়েছেন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে চার উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই তরুণ তারকা। তাঁর শিকারের তালিকায় ছিলেন অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, রিঙ্কু সিং, মনীশ পান্ডে এবং বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল। তবে ম্যাচের পরে অশ্বিনী বলেন, এই চার উইকেটের মধ্যে তাঁর প্রিয় উইকেট কোনটি। অশ্বিনী বলেন, ‘আমার প্রিয় উইকেট আন্দ্রে রাসেল। কারণ তিনি একজন বড় মাপের খেলোয়াড়।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন