সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএল ২০২৫-এর যাত্রা ভালো হলো না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। প্রথম ম্যাচে ইডেন গার্ডেন্সে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৭ উইকেটে হারল নাইটরা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭৪ রান করেছিল কেকেআর, যা সহজেই তাড়া করে ফেলে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন বেঙ্গালুরু। ২২ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় তারা। কেকেআরের হারের মূল পাঁচটি কারণ খুঁজে দেখা যাক।
প্রথম কারণ হিসেবে পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর ব্যর্থতাকে বলা যায়। আসলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার প্লে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময় মাত্র দু'জন ফিল্ডার ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন। কিন্তু কেকেআর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৯ রান তোলে তারা এবং এই সময়েই কুইন্টন ডি’ককের উইকেট হারায়। পাওয়ার প্লে-তে রান তুলতে না পারার কারণে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় কেকেআর।
এছাড়া, এই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে নাইটেদের মিডল অর্ডার। প্রথমে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পর মাঝের ওভারগুলোয় রান বাড়ানো দরকার ছিল কেকেআরের। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা সেটি পারেননি। বিশেষ করে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও রিঙ্কু সিং প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। প্রথম ১০ ওভারে ১০৭ রান তোলার পর মনে হয়েছিল, কেকেআর ২০০ রানের বেশি করতে পারবে।
কিন্তু শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৭ রান তুলতে পারে তারা এবং এই সময়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ইডেন গার্ডেন্সের মতো উইকেটে প্রথমে ব্যাট করে ২০০ রানের কম স্কোর করা মানেই চাপে পড়ে যাওয়া। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে শিশির পড়ার কারণে বোলারদের জন্য বোলিং করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও, রাহানের ভুল অধিনায়কত্ব ম্যাচে হারের অন্যতম কারণ। ১৭৪ রান বাঁচাতে হলে কেকেআরকে শুরুতেই উইকেট নিতে হতো। কিন্তু অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল না। দলের প্রধান তিন বোলার হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনকে পাওয়ার প্লে-তে ব্যবহার না করে তিনি প্রথম ওভার করান বৈভব অরোরা ও স্পেনসার জনসনকে দিয়ে। বৈভব তার প্রথম দুই ওভারে ৩২ রান দেন, জনসন দেন ২১ রান। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আরসিবি শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে প্রধান বোলারদের আনা হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন