সমকালীন প্রতিবেদন : এই ওষুধটা খেলেই তরতরিয়ে কমবে ওজন। দাম কত জানেন? সাথে আছে একটা সুখবর। ডায়াবেটিস রোগীরাও অনায়াসেই এই ওষুধ খেতে পারবেন। কারণ শুধু ওজন কমাবে না, এই ওষুধের মধ্যে রয়েছে আরও একটা বিশেষ গুণ। আর দুশ্চিন্তারও কোনো কারণ নেই। রীতিমতো কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা মানে সিডিএসসিও এই ওষুধ বিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে জানাবো এই ওষুধ আপনার জন্য বাজেট ফ্রেন্ডলি কিনা! কাদের জন্য এই ওষুধ? ওষুধের নাম কি? সঙ্গে অন্যান্য ডিটেলস।
ওজেম্পিক নিয়ে তুমুল চর্চার মাঝেই ওজন কমানোর নতুন ওষুধ এলো ভারতের বাজারে। ওষুধের নাম মাউনজেরো। যেহেতু কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা এই ওষুধটার বিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি আগ্রহ এই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে। কিন্তু প্রশ্ন একটা জায়গাতেই, ডায়াবেটিস বা সুগার রোগীরা কিভাবে এই ওষুধ নিতে পারবেন?
তাহলে এবার আসল কথাটা বলা যাক। মাউনজেরো মূলত ডায়াবিটিসেরই ওষুধ। জিআইপি ও জিএলপি-১ নামক দু’টো হরমোনকে সক্রিয় করে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এই ওষুধ। বহু দিন ধরে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধ হিসেবে প্রয়োগ করা হত মাউনজেরো। কিন্তু পরে এর উপাদানে নানা বদল এনে স্থূলতা কমাতেও এটাকে অ্যাপ্লাই করার চেষ্টা শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। অলরেডি বহু মানুষের উপর পরীক্ষা করে সাফল্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি।
এবার প্রশ্ন হল কতটা ওজন কমতে পারে? আর কত দিনে? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২৫৩৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর প্রাথমিকভাবে ওষুধটির ডোজ পরীক্ষা করা হয় মাস তিনেকের মতো। দেখা যায়, ওষুধটা ১৫ মিলিগ্রাম ডোজে যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদের তিন মাস পরে ওজন কমেছে ২১ কেজির মতো। ৫ মিলিগ্রাম ডোজে নিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের ওজন কমেছে গড়ে ১৫ কেজির মতো। এই দেশে ওষুধ চলে এলেও, ভারত কিন্তু নির্মাতা নয়। আমেরিকার ওষুধ নির্মাতা সংস্থা এলি লিলির তৈরি এই ওষুধটি বহুবার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হওয়ার পরে এদেশে বিক্রির জন্য ছাড়পত্র পায়।
এবার জেনে নিন কাদের জন্য বেসিক্যালি এই ওষুধ? নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে, ওষুধটা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নিতে হবে। যাঁদের স্থূলতা রয়েছে অর্থাৎ বডি-মাস-ইনডেস্ক মানে বিএমআই ৩০ বা তার বেশি, তাঁরা নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, বিএমআই ২৭ বা তার বেশি হলেও ওষুধটা নেওয়া যাবে। এমনকি টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকলেও এই ইঞ্জেকশন নেওয়া যাবে।
আবার ধরুন স্থূলত্বের কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন লোকজনও ইঞ্জেকশনটা নিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এবার আপনার মনে হতেই পারে, একটা ওষুধের যখন এত উপকার তখন এর দাম কত হতে পারে। তথ্য বলছে এ দেশে আড়াই মিলিগ্রাম ভায়ালের দাম ৩৫০০ টাকা ও ৫ মিলিগ্রাম ভায়ালের দাম ৪৩৭৫ টাকা। সপ্তাহে একবারই নিতে হয় এর ডোজ।
এক মাসের থেরাপির খরচ ডোজের হিসেবে ১৪ থেকে ১৭ হাজার টাকার মতো পড়বে। তবে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে মাথায় ঢুকিয়ে নেবেন, ওষুধটা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিতে বারণ করা হয়েছে। তাই এই ওষুধ ব্যবহার করার আগে বা নিজের শরীরে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন