Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

শিক্ষকের মারে কান ফেঁটে রক্ত চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রের

 ‌

Student-injured-by-teacher

সমকালীন প্রতিবেদন :‌ পড়া না পারার 'অপরাধে' চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রকে প্রথমে নিলডাউন করিয়ে পরে কানে সজোরে থাপ্পড় মেরে দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারের চোটে কান দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায় ওই ছাত্রের। বিষয়টি বাড়িতে জানালে আরও‌ মারের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে গাইঘাটা থানার কাহনকিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। ওই দিন স্কুল চলাকালীন চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাসে ছিলেন স্কুলের সহশিক্ষক অশোককুমার বিশ্বাস। অভিযোগ, ক্লাসে পড়া না পারার কারণে রুদ্র দাস নামে এক ছাত্রকে প্রথমে নীলডাউন করিয়ে রাখেন ওই শিক্ষক। এই অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর ওই ছাত্রের মাথা ঘুরতে থাকে। সেকথা শিক্ষককে জানাতেই তিনি ওই ছাত্রের দুই কানে পর পর সজোরে থাপ্পর মারেন বলে অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়, আক্রান্ত ছাত্র এবং তার বাবার অভিযোগ, এরপর রুদ্রর মাথা দেওয়ালে ঠুকে দেওয়া হয়। থাপ্পর মারায়র চোটে ওই ছাত্রের কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। সেই রক্তে জামা লাল হয়ে যায়। এই অবস্থায় ওই শিক্ষক আক্রান্ত ছাত্রকে জামা খুলিয়ে স্কুলের কলে পাঠিয়ে জামা ধুয়ে আনতে বাধ্য করেন। আর একথা কাউকে জানালে আরও মারধোর করা হবে বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় ওই ছাত্র অসুস্থ বোধ করায় বাড়ি যেতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক অশোককুমার বিশ্বাস অসুস্থ ছাত্রকে বাড়ি পর্যন্ত যেতে দেন নি। তার বাবা গৌতম দাসের অভিযোগ, এতোবড় ঘটনা ঘটে গেলেও স্কুলের কোনও শিক্ষক আমাদেরকে কিছু জানান নি। অভিযুক্ত শিক্ষক অশোককুমার বিশ্বাসের চরম শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। এই ঘটনার পর থেকে আর স্কুলে আসছেন না অভিযুক্ত শিক্ষক।

এদিকে, ছাত্রের প্রতি এই অমানবিক আচরনের প্রতিবাদে শুক্রবার ওই ছাত্রকে নিয়ে গাইঘাটা বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত ছাত্রের বাবা গৌতম দাস। বিডিও অভিযোগপত্রটি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক স্কুলে না আসায় এব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

ঘটনার কথা শিকার করে এব্যাপারে কাহনকিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ বালা জানান, বিশেষ কাজে ওই দিন তিনি স্কুলে আসতে পারেন নি। সন্ধে নাগাদ অন্য এক সহশিক্ষকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই সহশিক্ষককে আক্রান্ত ছাত্রের বাড়িতে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক ফোন করে পরদিন জানান যে, তিনি অসুস্থ। তাই আপাতত স্কুলে আসতে পারবেন না।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন