সমকালীন প্রতিবেদন : বিরল রোগ ‘আলফা-গ্যাল’! এমন এক অসুখ, যাতে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেশি। জানেন, কিভাবে ছড়াচ্ছে এই রোগ? রেড মিট থেকেই বিপদ? সিম্পটম কি? অ্যালার্জি হলেই ভয়? সতর্ক করছেন গবেষকেরা। এই প্রতিবেদন থেকে 'আলফা গ্যাল' সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত।
রেড মিট খেলেই অ্যালার্জি? সাবধান! যে সে অ্যালার্জি নয়, বিরল রোগ ‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’। আসল ভয় হলো এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেশি। আর সিম্পটম? ‘আলফা গ্যাল সিনড্রোম’ এ শরীরে ‘গ্যালাকটোজ আলফা-১, ৩-গ্যালাকটোজ’ নামে একরকম ‘অ্যালার্জেন’ তৈরি হয়, যা এই অ্যালার্জির কারণ।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, মাংস খাওয়ার ৩-৮ ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়েছেন অনেকে। সারা গায়ে চুলকানি, ঠোঁট ও চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, শরীরের গ্রন্থিগুলো ফুলে লাল হয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি, খাদ্যনালিতে সংক্রমণও ধরা পড়েছে।
এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য কিছু উপসর্গ। এটা এমন এক ধরনের অ্যালার্জি, যাতে রক্তচাপ হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। বমি থামবেই না। ওষুধ খেলেও ডায়েরিয়া সারবে না। সেক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠবে। রোগীর এমন লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আইজিই অ্যান্টিবডি টেস্টেই ধরা পড়বে এই সংক্রমণ। আর দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণহানির ঝুঁকিও কমবে। মূলত কাঁচা মাংসে একরকম ‘টিক’ বা পোকা জন্মাচ্ছে, তার থেকেই এই বিরল রোগ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। নাম ‘এক্সোডেস স্ক্যাপুলারিস’। বন্যপ্রাণীর শরীরে এই ধরনের পোকা জন্মায়।
পশুর শরীরে পরজীবী হিসেবে বাসা বাঁধে এই পোকা। খুব তাড়াতাড়ি বংশবিস্তারও করে। আর পশুর থেকে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখানেই ভয়। গবেষকেরা দেখেছেন, কাঁচা মাংস থেকেই এই পোকা ছড়াচ্ছে। ঠিকমতো রান্না না করলে বা উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস সেদ্ধ না করে খেলে, এই পোকার কারণেই আলফা-গ্যাল অ্যালার্জি হচ্ছে।
তবে শুধু মাংস নয়, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার থেকেও এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে দেখা গিয়েছে অনেককে। এমনকি প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকেও অ্যালার্জি হতে দেখা গিয়েছে। তাই বুঝে শুনে খান রেড মিট। হট-ডগ, বার্গার বা হ্যামবার্গারও খান বুঝেশুনে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন