সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতে এম পক্সের থাবা! মহামারীর আকার নিচ্ছে এম পক্স? জানেন লক্ষণগুলো কি? জ্বর হলেই সাবধান! এটা কিন্তু সংক্রামক। কিভাবে ছড়ায় এম পক্স? কোন কোন দিক থেকে সাবধানতা অবলম্বন করবেন? বিস্তারিত আজকের এই প্রতিবেদনে।
মানুষ থেকে মানুষের শরীরে হু হু করে ছেয়ে যাচ্ছে এম পক্স। সারা গায়ে ব্যথা, জ্বর এই সিম্পটমগুলোর পাশাপাশি আরো মারাত্মক কিছু উপসর্গ রয়েছে এই রোগের। এই সংক্রামক রোগে হাজার হাজার মানুষ কাবু। জাস্ট কয়েক মাসের মধ্যে কঙ্গোর পরিস্থিতি শোচনীয়। ভারতের বর্তমান স্ট্যাটাস কি? জানাবো, তার আগে লক্ষ্য রাখুন জ্বর আসছে কিনা।
বেসিক্যালি এই রোগের লক্ষণ সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা। জ্বরে গা পুড়ে যায়। গা ভরা ফোস্কা। গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা। সেই সঙ্গে মাথাব্যথা, পেশীর ব্যথা, পিঠে ব্যথা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, কাশি তো আছেই। ধীরে ধীরে সারা গা গুটি গুটি ফোস্কায় ভরে যায়। যে ফুসকুড়িগুলো যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক। ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়ে রোগী। এছাড়া লিম্ফ নোডগুলো ফুলে যায়।
লক্ষণগুলো সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। তবে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যদিও আশার কথা একটাই, এই রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা কম। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এমপক্সের চিকিৎসা না হলে সেটা যথেষ্ট বিপজ্জনকও। এবার জানাই কিভাবে ছড়ায় এই রোগ। হু-এর মতে, গুটি বসন্ত শ্রেণির এই এমপক্স সংক্রামক। যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
এমপক্স আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে, সংক্রমণ অবশ্যম্ভাবী। এছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাস, থুতু থেকেও ছড়ায়। আক্রান্তের কাছাকাছি এসে কথা বলা বা শ্বাস নেওয়া থেকেও সংক্রমিত হয়ে পড়েন মানুষ। উগান্ডায় এমপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ২০২৪ এই, হু এমপক্সকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে।
সেই সঙ্গে জানায়, নিশ্চিন্ত থাকার সময় এটা নয়, কারণ রোগটা অন্য দেশেও ছড়াতে পারে। উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কেরালায় প্রথম এমপক্স রোগী ধরা পড়ে। মাল্লাপুরম জেলার ৩৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দুবাই থেকে ফিরেছিলেন। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, ওই ব্যক্তির পরিবারের ২৬ জন ও তিনি যে বিমানে এসেছিলেন সেই বিমানের ৩৭ জন যাত্রীর উপরে নজর রাখা হচ্ছে।
গত ২ বছরে ভারতে মোট ৩০ জন এমপক্স রোগীর সন্ধান মিলেছে। পাওয়া গিয়েছে এমপক্সের ২টি স্টেইন। এসব কথা মাথায় রেখেই এবার পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। সতর্ক থাকুন আপনিও। প্রয়োজনে এই বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন