সমকালীন প্রতিবেদন : লড়াই কাকে বলে? সংজ্ঞাটা জানতে গেলে চলে যেতে হবে আফগানিস্তানের কাছে। ২০২৩ সালে ওডিআই বিশ্বকাপে জেতা ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গিয়েছিল, তবে লড়েছিল শেষ পর্যন্ত। এরপর ২০২৪ সালে তারা পাকিস্তানকে হারায়। আর এবার পরাস্ত করল ইংল্যান্ডকে। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে শেষ বলে জিতে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল ও ইংল্যান্ডকে বের করে দিল লড়াই থেকে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান করে ৩২৫ রান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা এই রান করে। সর্বোচ্চ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। ১৭৭ রানের বিশাল ইনিংসের উপর ভর করেই এই রানে পৌঁছান। ইব্রাহিম জাদরান মোট তিনজনের সঙ্গে বড় রানের পার্টনারশিপ করেন। শাহিদি, আজমাতুল্লা ওমরজাই ও মহম্মদ নবির সঙ্গে পার্টনারশিপ করেন।
রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ভালো শুরু পায়নি। ফিল সল্ট ও বেন ডাকেটের জুটি মাত্র ১৯ রান করে। আজমাতুল্লাহ ওমরজাই বোল্ড আউট করেন সল্টকে। ৯ রান করে আউট হন জেমি স্মিথ। এর পর ফেরেন হ্যারি ব্রুক। ১৩৩ রানে ৪ উইকেট থেকে দলের হাল ধরেন জো রুট ও জশ বাটলার।
এই জুটি ৮৩ রান করে অক্সিজেন দেয়। রুট করেন ১২০ রান। তিনি বাদে ৩৮ রান করেন ডাকেট ও জশ বাটলার। তবে ইংল্যান্ড লড়াই করলেও ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকায় তারা জিততে পারেনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৩ রান। ক্রিজে ছিলেন মার্ক উড ও আদিল রশিদ।
অনেকে আশা করেছিলেন, রশিদ বড় শট মেরে হয়তো জিতিয়ে দেবেন। কিন্তু আজমাতুল্লা ওমরজাই আটকে দেন। প্রথম চার বলে এক রান করে দেন। পঞ্চম বলে ফেরান আদিল রশিদকে। আর ৮ রানে জিতে যায় আফগানরা। বছর দেড়েক আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতেছিল আফগানিস্তান।
সেটা ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে ফের ব্রিটিশ সিংহ বধ করল আফগান বাহিনী। শুধু ইংল্যান্ডকে হারানোই নয়, জস বাটলারের দলকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিলেন রশিদরা। সেই সঙ্গে আফগান ব্রিগেড ঢুকে পড়ল সেমিফাইনালের দৌড়ে।
আপাতত পয়েন্ট টেবিলের যা অঙ্ক, তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিতলেই শেষ চারে পৌঁছে যাবেন রশিদ খানরা। কিন্তু হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হবে। বৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান ম্যাচ ভেস্তে গেলেও অবশ্য স্বপ্নভঙ্গ হবে আফগান ব্রিগেডের। কারণ, অজিদের থেকে নেট রানরেটে অনেকখানি পিছিয়ে তারা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন