সমকালীন প্রতিবেদন : বিধানসভা ভোটের আগে শক্ত ভিত গড়ে তুলতে তৃণমূলের মেগা সাংগঠনিক সভা! বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের মহাসমাবেশ ডেকেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের রূপরেখা অনেকটাই ঠিক করতেই এই সভার আয়োজন। তবে নজর কাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য— দলের শৃঙ্খলা ভাঙলে রেয়াত নেই!
"শৃঙ্খলার বাইরে কেউ যাবেন না!"— সাফ বার্তা অভিষেকের
সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে মতবিরোধ ও প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকেই কড়া বার্তায় জানিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ব্যবহার করা চলবে না। তিনি বলেন, “বিধায়ক থেকে ব্লক স্তরের নেতারা— সবাই সতর্ক থাকুন। শিথিলতা চলবে না! বিজেপি বাংলাকে কলুষিত করতে চাইছে, আমাদের এখন থেকেই তৈরি থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০২১-এ আমাদের নেত্রী বলেছিলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতব। এবার আমাদের লক্ষ্য ২১৫ আসনের বেশি। এক ছটাক জমিও কাউকে ছাড়া যাবে না।” দলের কর্মীদের মাঠে নেমে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি, হোয়াটসঅ্যাপে রাজনীতি নয়, বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
এদিন মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের নাম করেই অভিষেক স্পষ্ট বলেন, “যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে গিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বেইমানদের চিহ্নিত করার কাজ আমি আগেও করেছি, এবারেও করব। কেউ দলকে ছোট করতে চাইলে, তাদের রেয়াত করা হবে না।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের পর অভিষেককে অনেকটাই দূরে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তৃণমূলের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন না তিনি। তবে এদিন অভিষেক নিজেই ব্যাখ্যা দিলেন, “আমি তিন মাস ঘুমোতে পারিনি। মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি শুরু করেছি।” তিনি দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে হবে না। জনমুখী কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
২০২৬-এর রণকৌশল কী?
এই সভার মূল বার্তা— শৃঙ্খলা, ঐক্য, ও জনসংযোগ। অভিষেকের বক্তব্যে পরিষ্কার, তৃণমূল ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামতে চাইছে। বিপরীতে বিজেপি-কে একচুল জমি না দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল ফের শক্তিশালী হয়ে ভোটমাঠে নামতে চলেছে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন