সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৩ সালের আগস্টে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করে ইতিহাস লিখেছে ভারত। আমাদের দেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে কিভাবে কম খরচেই মহাকাশের বাদশা হওয়া যায়। তাই চাঁদের পর সূর্যকে নিয়ে গবেষণার পথে পা বাড়িয়েছে ভারত।
আগামী ২ বছরের মধ্যে একে একে শুক্র, মঙ্গল সহ মহাকাশের অজানা বিষয়কে নিয়েই গবেষণা চালাবে ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে ইসরোর আগামীর ক্যালেন্ডার দেখে। তবে এর মাঝেই এলো বড়সড় আপডেট। এবার মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন খুলতে পারে ভারত, খবর এমনটাই।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, মহাকাশের সুপারপাওয়ার হওয়ার জন্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই খোলা হতে পারে এই স্পেস স্টেশন। আর এই বিষয়ে এবার কিছু তথ্য শোনা গেছে কানাঘুষো।
জানা গেছে, ভারত যে মহাকাশ স্টেশন তৈরি করবে তার ওজন হবে ২০ টন, যেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ওজন প্রায় ৪৫০ টন এবং চীনা মহাকাশ স্টেশনের ওজন প্রায় ৮০ টন।
তবে কম ওজন কেন? কারণ, ইসরো এটিকে এমনভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে এটি ৪-৫ জন মহাকাশচারীকে তার ভেতর রাখতে পারে। এটি স্থাপন করা হবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে। এটিকে লিও বলা হয় যা, পৃথিবীর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কিন্তু কবে হবে এই অভিযান? উল্লেখ্য, আজ থেকে ৪ বছর আগে ইসরোর বিদায়ী চেয়ারম্যান কে সিভান ভারতের মহাকাশ স্টেশন তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। এটিও বলা হয়েছিল যে, গগনযান মিশনের পরে হবে। অর্থাৎ, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে এই স্বপ্নপূরণ করবে।
আসলে গগনযান মিশন এর প্রথম পর্ব। যেখানে নভোচারীদের পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে লিও কক্ষপথে পাঠানো হবে। গগনযান মিশন যতদূর যাবে, ততদূরেই ভারত একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।
এই বিষয়ে এই তথ্যও মিলেছে যে, ভারতের মহাকাশ স্টেশন প্রস্তুত হওয়ার আগেই আমেরিকা ভারতীয় মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ দেবে। এ জন্য নাসা এবং ইসরোর মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৪ সালে, ভারতের দুই মহাকাশচারীও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যেতে পারেন।
এর আগে আমেরিকার হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাই একথা বলাই যায় যে, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত চীন এবং আমেরিকার মতো দেশকে ছাপিয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন