সমকালীন প্রতিবেদন : সুন্দরবনের মৌলেদের সম্পর্কে প্রবাদ আছে। তাদের দু'ধরনের বিপদ- 'জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ'। কিন্তু আসল বিপদ জলদস্যুর। বার বার তা প্রমাণিত হয়েছে।
সুন্দরবন এলাকার গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া দয়াপুর থেকে ৭ জন মৌলের একটি দল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিল। সেখানে গভীর রাতে সুন্দরবনের পঞ্চমুখানি ৩ নম্বর জঙ্গলের কাছে জলদস্যুরা আক্রমণ করে।
এই আক্রমণের মুখোমুখি তাদের বার বার হতে হয়। তারাও জীবন দিয়ে লড়াই করেন এই জলদস্যুদের বিরুদ্ধে। গোসাবা বনদপ্তর সূত্র জানা গেছে, প্রায় ২০ জনেরও বেশি জলদস্যু ওই দুটি নৌকাকে ঘিরে ফেলে। মৌলেদের কাছ থেকে মধু সহ বেশ কিছু জিনিস ছিনতাই করে নেয়।
ওই জলদস্যুদের হাত থেকে ২ জন মৌলে কোনওরকমভাবে তাদের জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে আসে। ওই দুজন মৌলে বনদপ্তরের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। বনদপ্তরের কর্মীরা ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বাকি পাঁচ জনকে উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, এবছর বনদপ্তর মধুর দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। ফলে মৌলেদের মুখে ছিল হাসি। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেলো। তবে কোস্টাল পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ওদের ধরার চেষ্টা করছে। কোস্টাল পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন ব্যাঘ্র প্রকল্পের রক্ষীরা।
সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বনদপ্তরের দুটি নৌকাসহ একটি দল গিয়ে মৌলেদের উদ্ধার করে। এই বিষয়ে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের সহ অধিকর্তা জোন্স জাস্টিন জানিয়েছেন, মৌলেরা জলদস্যুদের কবলে পড়েছিলেন। তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারপর যে যার ঘরে ফিরে গিয়েছেন। সবার বাড়ি গোসাবা থানার সাতজেলিয়ার দয়াপুর এলাকা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন